এস এম তাজাম্মুল, মণিরামপুরঃ দীর্ঘ কয়েক বছর পর দেশে এখন বইছে নির্বাচনী হাওয়া,দলমত নির্বিশেষে ভোটার হতে প্রর্থী! প্রার্থী পার হয়ে রাজনৈতিক প্রতিটি দলের কেন্দ্র পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনী রোডম্যাপ মোতাবেক,সামনের মাসেই (ডিসেম্বর) তফসীল ঘোষণার ৩ মাসের মাথায় অর্থাৎ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারীতে হতে যাওয়া সংসদ নির্বাচনে সারা দেশের ন্যায় যশোরের ৬টি আসনের মধ্য ৫টিতে দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়েছে দেশের বড় রাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
তথ্যসূত্র বলছে,সারা দেশে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সহ হাইভোল্টেজ অনেকেই প্রতীক পাননি। দেশব্যাপী দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত নেতার অনুসারীদের কয়েক জায়গায় আন্দোলন ও বিক্ষোভ করতে দেখা গেছে। বিএনপির অধিকাংশ নেতৃবৃন্দের মন্তব্যে পরিষ্কার বোঝা যায়,তাদের জোটের শরীকদের আসন বিন্যাসে অনেক ত্যাগী ও রাজনৈতিক বিচক্ষণ নেতা টানা ১৭ বছর রাজপথে থেকেউ পাননি কাঙ্খিত ধানের শীষ প্রতীক। বন্চিত প্রার্থী ও তার অনুসারীদের চোখে হতাশা দেখা দিলেও চলতি এ প্রতিবেদনে নির্বাচনের ইতিহাসে বাংলাদেশে আবারো হতে চলেছে উৎসাহ উদ্দীপনায় একটি অংশগ্রহণ মূলক নির্বাচন। নতুন-পুরাতন ভোটররা আগ্রহ প্রকাশ করেছে ফ্যাসিস্ট সরকারের রাতের ভোটের কলংঙ্কিত অধ্যায়ের সমাপ্তি শেষে নির্বিগ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের অপেক্ষায় দেশবাসী।
সংসদীয় আসন যশোর – ৫ (মণিরামপুর) এর নির্বাচনী এলাকার বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য দলটির সদ্য প্রয়াত নেতা মোঃ মুছা’র স্বরণসভার পর থেকে এ আসনের দলীয় মনোনয়নের টিকিট পেতে অনেকেই দৌড়ঝাঁপ করে চলেছে। মনোনয়ন পেতে বিএনপির কেন্দ্রে কেউ কেউ তদবির করছেন,কেউ আবার নিরলস ভাবে লেগে আছেন জনসেবায়,কেউ লিফলেট হাতে ধানের শীষ প্রতীকের গনসংযোগে আছেন,কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক নেতারা আবার এড়িয়ে চলছেন বিশৃঙ্খলা,মণিরামপুর আসনে প্রার্থী মনোনয়ন হোল্ড করাতে অনুসারীদের অতি উৎসাহী কর্মকান্ডে সোস্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের বিশৃঙ্খলা।
সৈরাশাষক আখ্যায়িত ক্ষমতাচ্যুত আ’লীগ বিহীন আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ সংসদীয় আসনে প্রচার প্রচারনায় বিএনপির সাথে মাঠে আছে শরীক দলে জমিয়াতে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট নেতৃবৃন্দ।
গণমাধ্যমের চলমান এ অনুসন্ধান বলছে,বৃহত্তর যশোরের ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলীয় প্রতীক সহ মনোনীত প্রর্থীর সিরিয়ালে যশোর-৫ মণিরামপুর হোল্ড রেখে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের শরীক দলের সম্ভাব্য ঘোষণার পর হতে উপজেলাব্যাপী শুরু হয়েছে নানান সব গুজব!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের “ডেলিভারী অন পলিটিক্স”ফেইসবুকে অসংখ্য ভ্যারিফায়েড প্রফাইল হতে অযাচিত ভাবে বড় রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির “হেবিওয়েট ডিমান্ডিং ” শব্দটি ব্যবহারে হাস্যকর পরিবেশ সৃষ্টিতে ক্ষুন্ন করে ফেলেছে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও দলীয় প্রতীকের ভাবমূর্তি!
ইতিপূর্বে যে সমস্ত মনোনয়ন প্রত্যাশী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সংসদীয় আসন যশোর -৫ মণিরামপুরে জনসংযোগ,লিফলেট বিতরন ও প্রচার প্রচারনায় আলোচনায় এসেছেন তাদের রাজপথের ত্যাগ,সাংগঠনিক কার্যক্রম,চারিত্রিক গুনাবলীর সাথে দলীয় অনুসারীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা,জনমনের চাহিদার দিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির হোল্ড এ আসনে যারা ধানের শীষ প্রতীকের মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন তাদের মধ্য মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. শহীদ মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন,উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস,সেচ্চাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার সেলিম অগ্নি, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক
মোঃ আসাদুজ্জামান মিন্টু উল্লেখযোগ্য।
প্রায় ৩ লক্ষ ভোটারের এ আসনে সম্পূর্ন নির্বাচনী ফুরফুরে মেজাজে গন সংযোগে ব্যাস্ত সময় পার করছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী যশোর জেলা জামায়াত ইসলামের সূরাহ সদস্য দলীয় প্রতীক দাড়িপাল্লার কান্ডারী এড.গাজী এনামুল হক।
দাড়িপাল্লার প্রতীকের লিফলেট হাতে নির্বাচনী এলাকায় তার অনুসারীদের নিয়ে ভোটারদের সরাসরি বিভিন্ন চাহিদার আশা দিয়ে আশ্বস্থ্যর মধ্য দিয়ে নিয়মিত চাচ্ছেন ভোট।
ভোটারদের কথা চিন্তা করে এড.গাজী এনামুল হক চাঁদাবাজ,দখলদার,সন্ত্রাসী মুক্ত সমাজ গঠনে মণিরামপুর বাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।
মনোনয়ন হোল্ড করাতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী দলীয় প্রতীক ধানের শীষের লিফলেট বিতরনে চাইছেন ভোট। প্রচারে প্রতীকের ভোট চাওয়া এ সমস্ত প্রার্থীদের মধ্য কেন্দ্রীয় কমিটি জোট বরাদ্দের কথা উঠার পর সংসদীয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্য মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনের সমার্থিত ও শোভকাংক্ষীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
উপজেলা বিএনপির নবীন-প্রবীন নেতৃবৃন্দের সাথে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের একটি ত্যাগী কর্মীদের বড় অংশের ক্ষোভ প্রকাশে উঠে আসছে যে,ক্ষমতাচ্যুত আ’লীগ সরকারের সৈরা শাসনের ১৬/১৭ বছর হামলা-মামলার ভেতরেও মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির উপজেলা কার্যালয় খোল রেখেছেন বুক চেতিয়ে। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক জীবনে কর্মীবান্ধব এ নেতা জনগনের আস্থা অর্জনে শতভাগ আস্থার পাত্র হয়ে সাংগঠনিক মহলে সু-পাত্রের বাহকে ‘ব্লাকডায়মন্ড” উপাধিতে ভূষিত করেছে সকল রাজনৈতিক দলের কমবেশি নেতার কাছে। পিতৃ সূত্রে জনসেবকের সাইনবোর্ডে সাধারন মানুষের জনবান্ধব হয়ে সংসদীয় আসনে তৈরি করেছেন মজবুত ভীত।
সম্প্রতী উপজেলা বিএনপিতে অনুপ্রবেশ কারীদের আনাগোনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার বিচ্ছিন্ন কিছু ঘঠনায় উপজেলা বিএনপির সভাপতির মান কিছুটা ক্ষুন্ন হওয়ার সুযোগে তার নামে অপপ্রচার করে একটি মহল স্বার্থ হাচিলের চেষ্টা করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির নির্ভরযোগ্য মিডিয়া সেল।
এদিকে কেন্দ্রীয় কমিটির হোল্ড আসনে বিএনপির জোটের শরীক হয়ে মনোনয়ন প্রত্যাশী উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাসের সম্প্রতি সামাজিক ও সেবামূলক কার্যক্রমে নিজেকে জোটের শরীক দলের হয়ে মনোনীত হতে চালিয়ে যাচ্ছেন জনসংযোগ। সাবেক ধর্ম প্রতিমন্ত্রী ও ঐতিহ্যবাহী ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদানী নগর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহূম মাওলানা মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাসের ধর্মীয়গুনাবলী নিজের আয়ত্বে করে প্রয়াত পিতার অসম্পন্ন কাজ শেষ করার প্রত্যায়ে ধানের শীষ প্রতীকের দলীয় মনোনয়ন দৌড়ে এগিয়ে আছেন মাওলানা রশীদ বিন ওয়াক্কাস।
তথ্য মোতাবেক,এমতাবস্থায় প্রর্থীদের মনোনয়ন দৌড়ে বিএনপির হোল্ড রাখা আসনে প্রত্যাশীদের সাথে সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের ওয়ালে চোখ রাখার পরও স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতা কর্মী,এমনকি ভোটাররা পর্যন্ত উৎকন্ঠায় আছে যে, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির মনোনয়নের হোল্ডিং জট কাটবে কবে!কার হবে দলীয় প্রতীক! কে পাবে দলীয় মনোনয়ন!
তবে,দীর্ঘদিন রাজনৈতিক দলের সামনে থেকে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন জানিয়েছেন ‘আমি মনোনয়নের দাবিদার!বিবেচনা সাপেক্ষে দল যাকে প্রতীক দিবে তারই নির্বাচনে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি মাঠে থেকে কাজ করবে।
এ প্রতিবেদকের কাছে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বিশ্বস্থ্য সূত্রের দেওয়া তথ্য আছে,জোট নই দলীয় প্রার্থীর অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মনোনীত করে প্রতীক সহ খুব দ্রুত নাম প্রকাশ করা হবে।

